তুতের দিব্যি!

আজকে ভর সন্ধ্যাবেলা ঝিমিয়ে উঠে হঠাৎ টটাটিসের গল্প মনে পড়ল। এর কথা পড়েছিলাম তারাপদ রায়ের "কী খবর" বইতে। দেবাশিস দেবের অনবদ্য কার্টুনসহ।

যাইহোক, আজ "টটাটিসের" ব্যাপারে আরেকটু পড়তে গিয়ে দেখি ও বাবা এ তো আমাদের সেই অ্যাস্টেরিক্সের "তুতে", ফ্রেঞ্চে "Par Toutatis!" ...



মানে ওই একই কেলটিক/রোমান দেবতা, তার নামেই 4179 Toutatis - সেই গ্রহাণু যা নাকি আমাদের মাথায় পড়ব পড়ব বলেও পড়েনি, ফলে আমি আপনি ঝাড়েবংশে ফৌত হতে হতে হইনি। অবশ্য নস্ত্রাদামুসও নাকি বলেছিলেন? সেও মেলেনি। সুনীল হলে নির্ঘাত বলতেন "কেউ কথা রাখেনি।"
হিসেবী মানুষ এখন থেকে দিন গুনতে থাকুন। 

তা খুঁজে দেখলাম ইন্টারনেট বলছে, "In reality, 4179 Toutatis is classified as a Potentially Hazardous Asteroid (PHA) because its chaotic, four-year orbit brings it relatively close to Earth's orbit."
তবে ওঁরা আরও অনেক জটিল অঙ্ক কষে বলেছেন আপাতত ৬০০ বছর কোনো চিন্তাই নেই। ততদিন আমি, আপনি, শ্যাম অলটমান, অগ্নিমামী কেউই থাকব না, কাজেই তোমার চিন্তা নাই বনমালী।
তবে, ভাবছিলাম আমি যদি একদিন একটা এ্যাই মডেল বানাই, ব্যাটার নাম রাখবো টটাটিস ওরফে তুতে। সে মাঝে মাঝে বছর চারেক অন্তর সভ্যতা ধ্বংসের ভয় দেখাবে আর লোকে বিবাদ বিসংবাদ ভুলে একটু একসাথে ভেজা ঘাসের মাঠে শুয়ে রাতের আকাশের নিরবচ্ছিন্ন তারার আলো দেখবে। জীবন ক্ষণস্থায়ী বলেই কী না সুন্দর!
সে গুড়েও বালি। খুঁজে দেখলাম কেউ অলরেডি ওই নামেই কোম্পানি খুলে ফেলেছে। ধুর।
অবশ্য এই তো আমাদের একাডেমিক জীবন কালিদা, যাই দুরন্ত আইডিয়া মাথায় আসে, দেখি ঠিক কোনো না কোনো শালা আগেই ভেবে রেখেছে। এখন তো অবশ্য স্কুপ করার দায়িত্ব এ্যাই নিয়ে নিয়েছে, সেই সোনার ডিম পাড়া হাঁসের গল্প মনে পড়ে। তাই আর আমাদের কিছু হল না, ২% লিস্টেও আর নাম উঠল না। তবে, হল না বলেই কী না এই সন্ধেবেলা পেপার না লিখে, তারাপদ রায় পড়ছি, আর আগডুম বাগডুম ভাবছি।
এইটুকুই হয়তো শেষমেশ মানুষের হাতে থেকে যাবে। তুতের দিব্যি!


---
(কী খবর থেকে তারাপদ রায়ের লেখাটাও টুকে দিলাম।)
"দু দিন আগেই অ্যাসোসিয়েটেড ফ্রি প্রেস প্রচারিত সংবাদে জানা গেছে যে গত তিরিশে নভেম্বর, শনিবার পৃথিবীটা খুব বাঁচা বেঁচে গেছে। এ বিষয়ে দৈনিক পত্রিকাতেও ইতিমধ্যে সম্পাদকীয় নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।
মস্কোর রাশিয়ান ইনস্টিটিউট অফ থিওরেটিক্যাল অ্যাস্ট্রনমির জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, 'টটাটিস' নামের একটি গ্রহখণ্ড অল্পের জন্য পৃথিবীতে আঘাত হানেনি, যা চার বছর আগেও একবার পৃথিবীর দিকে এগিয়ে এসেছিল।
টটাটিসের পথ অন্যান্য গ্রহনক্ষত্রের মতো সুনির্দিষ্ট নয়, কিংবা সেটা এতই জটিল যে গ্রহবিজ্ঞানীরা অনুধাবন করতে অক্ষম।
তবে সুখের কথা টটাটিসের এইরকম রহস্য-রোমাঞ্চময় নাম এবং সেই সঙ্গে তার পৃথিবীর ওপরে ঝাঁপিয়ে পড়ার মনোবৃত্তির কথা বিজ্ঞানীরা আগে প্রচার করেননি।
তা হলে তো হইচই পড়ে যেত। পরশুরাম গগন চটির গল্প লিখেছিলেন। আমরা অল্প বয়সে চেতাবনীর কথা শুনেছি। মাঝে-মধ্যেই দু-চার দশ বছর বাদে রব ওঠে অমুক দিন, অমুক সময়ে জগৎ-সংসার নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।
হইচই কাণ্ড শুরু হয়ে যায়। নির্দিষ্ট দিনে বাজারহাট ফাঁকা, রাস্তাঘাটে লোকজন নেই। স্কুল-কলেজ, অফিস-কাছারি জনশূন্য, শুনশান।
সুখের বিষয় খবরটা আগে জানা যায়নি। আতঙ্কিত হওয়ার রোমাঞ্চ থেকে আমরা বঞ্চিত হয়েছি।
তবে আশঙ্কার বিষয় হলো, ২০০০ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বরে চার বছর পর টটাটিস পুনরায় পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসার চেষ্টা করতে পারে।

Comments