"ফরেভার ইজ় রিয়েলি লং, এস্পেশালি টুওয়ার্ডস দ্য এণ্ড"। এই যেমন এখন-ই কেমন একটা ফরেভার ফ্যাসিজেঠুদের ফাঁসে আটকে পড়ে অনন্তযাত্রায় চলেছি তো চলেছি, এক একটা সপ্তাহ কাটে যেন এক বছর করে বুড়ো হয়ে যাই। ওরেব্বাপরেব্বাপরেব্বাপ।
এই এক সপ্তাহেই দেখুন।
একদিন এ্যাই এসে সাড়েসাতশোখানা প্রিপ্রিন্ট ডাম্প করলো। তাতে একদলের হাহাকার, অন্যদলের উল্লাস। আমি অবশ্য নির্বিকার। আমি যেসব অঙ্ক কষি, সেসব নিয়ে এ্যাইবাবুদের আগ্রহ নেই মনে হয়, না থাকাই মঙ্গল। তবে, সেই ম্যাথডাম্পের আয়তন দেখে মনে পড়ল, সেই এক স্কুলের বন্ধু অ্যানুয়াল পরীক্ষার আগে বাথ্রুমে টোটাল লাইফ সায়েন্সের নোটসমগ্র গুঁজে এসেছিল, কিন্তু কার্যকালে সমুৎপন্নে ঠিক কোন পাতায় কোন প্রশ্নের উত্তর খুঁজে না পাওয়ায় সেই মাস্টারস্ট্রোক বিফলে যায়। তো, এ্যাই-বসেরাও যদি ঐরকম একটা চোথার-জন্য-চোথা বানিয়ে বিলি করেন হয়ত সাধারণের কিছু সুবিধে হয়।
সেইসব শক মেলাতে না মেলাতেই শুনি আমার সমনামী ভিপিবাবু ও অন্যেরা এক লপ্তে একগুচ্ছ টেক কোম্পানির ইমিগ্রেশনে কাঁচি করেছেন। সদ্য-গ্র্যাজুয়েটদের ওপিটি নিয়েও শুনলাম অস্বাভাবিক ফিজ় দাবি করেছেন। এতে ওঁদের কী কী রাজনৈতিক লাভ হবে ওঁরা নিশ্চয়ই হিসেব কষেই করেছেন, তবে, কত শত লোকের যে কত হয়রানি হবে কে জানে? তবে, এও এক আশ্চর্য ইস্যু যা নিয়ে মানুষের সহানুভূতি দেখি বড় কম। অবশ্য অত সিম্প্যাথি দিয়েই বা আর কী ধুইব?
তারই মধ্যে দেখি রাহুলবাবু আর এলনবাবু একদিন বৃষ্টিতে বিকেলে সুখদুঃখের কথা বলছেন। কী আর বলি? চোর তাড়াতে ডাকাত নিয়ে আসা আমাদের বহুদিনের অভ্যেস এ তো জানাই। রাহুলকে নিয়ে বেহদ আশাটাশা করতে ইচ্ছে হয় আজকাল, তবে, মাঝেমাঝেই মনে হয় এ যেন সেই ৯০'এর ছড়ু ক্রিকেট টিম। লাস্ট ওভারে অব্দি প্রেশার বাড়াবে। তারপর শচীন বল করতে আসবে।
এর মধ্যে ভালো বা আলো যা কিছু ঐ বাচ্চা-কাচ্চাদের মধ্যেই পাই। নেহা বা অভিজিত বা সৌরভ ইত্যাদিদের কথা বলছি না, ওদের পাশে, ঐ মিছিলেই যে মেয়েটির শুধু মুষ্টিবদ্ধ হাত দেখছি মাটিতে পড়েও ধরে আছে পোস্টারটিকে, আর যে মেয়েটি উন্মত্ত schutzstaffel-এর হাত থেকে আগলে ধরে বাঁচাচ্ছে আরেক বন্ধুকে তাদের দেখি। এইসব বন্ধুত্ব আর ঝাঁপিয়ে পড়া ছাড়া আমাদের হাতে সত্যিই আর কোনো অস্ত্রই নাই। নাথিং-নাল-নাডা।
আর ভাবি যে এইসব দৃশ্যের জন্ম দেখতে দেখতে আমরা না এইটাই ভুলে যাই যে অজস্র সুবিধাবঞ্চিত মানুষ নিতান্ত বিপদের মুখেই পড়ে রয়েছেন। জ্ঞানেশ পদত্যাগ করলে কী ঐ ‘ডিটেক্ট-ডিলিট-ডিপোর্ট’ প্রক্রিয়া আপাতত রদ হবে? বাংলাভাষী প্রান্তিক মানুষের জীবনে দৈনন্দিন সন্ত্রাস - সেও কী কমবে একটু? আমি জানি না। প্রশ্ন করতে ভয় করে। তবে, আশা করি।
আর যা ভেসে ওঠে, তাই আঁকড়াই। আজ একটা ভিডিও-তে দেখলাম, দুই বন্ধুর একজনকে পুলিশ ধরেছে, আরেকজন ফস্কে পালিয়ে যাচ্ছিল, যেতে যেতে কী মনে করে সে থমকে গিয়ে পেছু ফিরে এসে উঠে পড়ল ভ্যানে। আমি ভাবলাম, এইটা যদি আমি আর পানু হতাম, বা আমি আর রাজা বা দাশু বা অর্ণব বা সুনন্দ আর কোনো ঐরকম বন্ধু, আমিও গুটিগুটি ফিরে আসতাম নির্ঘাত। আসতাম না?
হয়তো আসতাম না। তাই লিখি। জঁ গেনেটের সেই দৈববাণী, রাইটিং ইজ় দ্য লাস্ট রিকোর্স ফর দোজ় হু বিট্রেইড। আমিও তাই। আই হ্যাভ বিট্রেইড। কারুর-ই পাশে কোনোদিন দাঁড়াইনি। উৎসব-ব্যসনেও না, রাষ্ট্রবিপ্লবেও না।
আর তাই এইবার যেন আর পাঁচজন অনাবাসী বাঙালির মত কলকাতায় থাকতে না পারার একটা চিনচিনে দুঃখ হয়, যাকে বলে ফোমো, সেইটে আর হচ্ছে না। এবার পুজোয় দিল্লি যেতে ইচ্ছে করছে বড়। ইচ্ছে করছে মিছিলের মাঝে গিয়ে দাঁড়াতে।
আপাতত, এইটুকুই আমার পুজোয় না-পাওয়ার লিস্টি।
Comments
Post a Comment