দুটো কথা। নতুন কিচ্ছু না। এমন কী আনপপুলার ওপিনয়ন কিংবা হট টেক-ও না। না বললে ঝাঁকানো সোডার মত গলার কাছে বগবগ করছে তাই ...
এক হচ্ছে যে কলেজ স্ট্রিটে ভাঙা পড়েনি, উচ্ছেদ স্থগিত এ খুব-ই স্বস্তিদায়ক, যাদবপুরে বুলডোজ়ারের ফিরে যাওয়াও তাই। তবে, দিনের শেষে ফলের দোকান, ডিম-পাঁউরুটি-টোস্ট কিংবা চায়ের দোকান-ও ঠিক ততোটাই জীবিকা, যতটা একটা বইয়ের দোকান।
আমি সন্দেহপ্রবণ তাই মনে হয় এও তো একরকমের পরিকল্পিত দৃশ্যকল্প-ই। যে মানুষ গত কুড়ি বছর বইপাড়ায় যাননি, আগামী কুড়ি বছরেও যাবেন না, সাইত্য মানে যার কাছে ফেসবুকীয় কলকাকলি আর হোয়াটসঅ্যাপের চুটকি, তার-ও কিছুটা স্বস্তি। যাক বাবা ঐটে তো বাঁচলো।
তবে, ডুবন্ত মানুষ খড়কুটো খোঁজে।
এস-আই-আরের সময় দেখেছি, বিখ্যাত মানুষের নাম বাদ গেছে সেই নিয়ে মানুষ ও মিডিয়া আকুল, প্রতিবেশী ও প্রায়ান্ধকার মানুষ উচ্ছন্নে যাক গে। আমার এক সিনিয়র দাদা থার্ড ইয়ারে উঠে ছলোছলো চক্ষে বলেছিল ভাই নিজের ব্রেকাপের থেকে পর্দায় শারুক্ষানের ব্রেকাপে cos2π বেশি*। পরে ভেবে দেখেছি আমিও তো আসলে তাই। মর্যালিটি ও এস্থেটিক্স।
আর, দুই হচ্চে যে একদিন যখন এই সাম্রাজ্যের পতন হবে, কারণ সব সাম্রাজ্যেরই অন্তিম পরিণতি পতন ও মূর্চ্ছা, তখন আমি বেঁচে থাকলে, তখন-ও পচাডিম আর আধলা ইঁটের মব জাস্টিসের পরিবর্তে ফেয়ার ট্রায়াল-ই চাইবো, আরেকটা ন্যুরেমবার্গ চাইবো। তবে কিনা, "খুব বেশি দিন বাঁচবো না আমি বাঁচতে চাই না।"
তাও চাইবো, সেই দিন এলে আরেকজন হ্যানা আরেন্ট যেন আরেকজন আইখম্যানের ট্রায়াল নিয়ে ব্যানালিটি অফ ইভিল লেখেন। এবং চাইবো একবারে না হোক, মানুষ দুবার তিনবারে একদিন শেষমেশ শিখবে। দেখে না হোক, ঠেকে।
আর শিখবে যে দিনের শেষে একজন মধ্যবিত্ত আর গৃহহীন লোকের মধ্যে আসলে যা অর্থনৈতিক ফারাক, তা সেই মধ্যবিত্ত আর একজন বিলিওনেয়ারের তুলনায় অতি, অতি, অতি সামান্য।
---
*কষ্ট পাই। অঙ্কের লোকে ত্রিকোণমিতির সূত্র মেনে যে ভাবে কষ্ট পান।
Comments
Post a Comment