Erasure poetry, আবার ব্ল্যাকআউট পোয়েট্রিও বলে। এইটি মারি রুয়েফ্ল। Erasure মানে একটি মূল টেক্সট থেকে ইরেজ করে করে, মুছে মুছে বা সাদা/কালোর পোঁচ দিয়ে ঢেকে ঢেকে আর একটি সম্পূর্ণ নতুন, কেউ ডিকশনারির মাঝের পাতা খুলে মুছতে শুরু করেন, কেউ খবরের কাগজ, তবুও ওই মূলের কিছু চিহ্ন রয়ে যায়। "লিখতে লিখতে কবি যেমন একটি বিশ্বাস ভেঙে চলে যায় অপর বিশ্বাসে"।
দেখতে কী দুর্দান্ত ফ্যাসিনেটিং লাগে, তবুও জানি আমার দ্বারা এইসব হইব না। তারপর যদি পাতাটা নষ্ট হয়, বা ডিকশনারির বারোটা পাঁচ বাজালি কেন বলে কেউ যদি কান মুলে দেয়, এইসব সাত পাঁচ ভেবে আমার আর ইরেজার পোয়েট্রি হবে না। তাছাড়া কবিত্বশক্তিও নেই।
তাও হাঁ করে দেখি। ভাবি জীবনও যেন এইরকম একটা erasure poetry, তবে অপটু এক ভীতুর ডিম কবির। প্রত্যেক বছর একটা দুটো শব্দ না বাক্য মুছে দিচ্ছে, ভয়ে ভয়ে। শেষমেষ, গলা পাকিয়ে বিক্ষোভ আর দলা পাকিয়ে ডাস্টবিন।
এইসব ছাইপাঁশ ভাবছি কারণ আজ চলে যাওয়ার দিন। প্রত্যেক বারের মত এবারেও কথার খেলাপি ছাড়া কিই বা করলাম, দেখা করব বলেও পারলাম না, মেলায় যাবো বলেও গেলাম না, মধ্যরাত্রির মাহফিল জমাব বলেও শেষমেশ এক ভাঁড় চা খেয়েই আড্ডা মুলতুবি হল। তবু এর মধ্যে একদিন সন্ধ্যেয় আমি আর পানু ২০৩ বিটি রোডের পুকুরঘাটে বসে দুটো বিড়ি খেয়েছি, আর সুখ দুঃখের গল্প করেছি। দুঃসময়ে সিগারেটও যে অক্সিজেন দেয়, কে জানত?
Jean Genet না কে যেন লিখেছিলেন, রাইটিং ইজ দ্যা লাস্ট রিকোর্স ফর দোজ হু বিট্রেইড। স্মৃতি থেকে লিখলাম, তো হুবহু নয়। কিন্তু সেই পড়ে তখন খুব রেগে গেছিলাম। এখন বুঝি মন্দ লেখেন নি। অথবা উনি আমাকে চিনতেন।

Comments
Post a Comment