হ্যানলন'স রেজার বলে, "Never attribute to malice that which is adequately explained by stupidity"! কথাটা জেনারেলি ভুল না, কিন্তু আজকাল ঘোর সন্দেহ হচ্ছে।
এই যেমন আমারও শুরুর দিকে ইসির অ্যাপ-ট্যাপ দেখে মনে হয়েছিল ওই একই গল্প। একদিকে হাইপার-ডিজিট্যাল দুনিয়া, অন্যদিকে তার ভিত তৈরি করছে অপদার্থ সব টুকেপাশ টেকব্রোএর দল। এইসব মানে এতো বাজে প্রোডাক্ট যে কলেজের থার্ড ইয়ারের ফাইনালে জমা দিলে দশে দুই পাবে কি না সন্দেহ, আর সে জিনিষ কিচ্ছু না ভেবে লাগিয়ে দিয়েছে অসহায় মানুষের পুচ্ছে। এবার দাঁড়াও লাইনে দস্তাবেজ হাতে। অবশ্য ইম্পিউনিটি ছাড়া অসহায়ের উপর অত্যাচার করে ঠিক সোয়াদ নেই।
যেসব জিনিষ একটা ঠিকঠাক কলেজের ছাত্রদের দিয়ে বানালে তিন মাসে দাঁড়িয়ে যায়, সে জিনিষ এত বাজে, এত ভুলে ভরা হবেই বা কেন? একটা নামের ম্যাচিং অ্যাপ মিডল নেম ধরতে পারে না? ইয়ার্কি হচ্ছে?! আমার ধারণা ওইসব এ্যাইফ্যাই বাজে কথা। এ্যাই নিয়ে আদিখ্যেতা দেখলে আমার জ্বলে যায় ঠিকই, কিন্তু এই যা দেখছি, এগুলো পাতি অপদার্থতা ছাড়া কী?? এ্যাই তো একটা উদ্ভট গোলেম, ওর ঘাড়ে দোষ চাপানো সোজা তাই চাপিয়ে দিচ্ছে। আসলে একটা প্রচন্ড ইলডিজাইনড, ইলইমপ্লিমেন্টেড একটা জিনিষ, সেটার একমাত্র লক্ষ ছিল গুচ্ছ লোককে ডিসএনফ্রাঞ্চাইজ করা। তাই এখন নতুন নতুন "রুল"! যার কোনো মাথা মুণ্ডু নেই, কিছু আরবিট সংখ্যা - ৬, ১৫, ৩৯, ৪০ ... কেন? কোথায় লেখা? কার কত বয়সে সন্তান হয়েছে, কার কটা বাচ্চা, এতে ইসির বাপের কী?
তাই ভাবি এগুলো আসলেই malice, এরপর delimitation হয়ে গেলে এই নাম কাটার প্রক্রিয়া কমপ্লিট। কিন্তু, সেসব করার পদাতিক সৈন্যও তো সব গাছ গামবাট- সে মানে এতই অপদার্থ যে কোথাকার তরবারি কোথায় রেখেছে নিজেও জানে না। এখন দেখছি কুসুমরঞ্জন বিষণ্ন মাগুরমাছের মত লাইনে দাঁড়িয়ে। কিন্তু তাদের আবার ভক্তি অটল, প্রতিদিন পুটু মারা গেলেও সে প্রোপাগাণ্ডা লিখেই যাবে।
দেখে অবশ্য একপ্রকার আনন্দই হলো। বুদ্ধ বলেছেন অন্যের দুঃখে দুঃখ পাওয়ার নাম করুণা, আর অন্যের আনন্দে আনন্দের নাম মুদিতা। চারটি মূল গুণ: মৈত্রী, করুণা, মুদিতা আর উপেক্ষা। ওই লিস্টে যেটা নেই সেটা আছে জার্মানে। অন্যের দুঃখে আনন্দ - schadenfreude! ময়ূখ প্রমুখকে লাইনে দেখলে যে ফিলিং হয়, সেটা ওই। শ্যাডেনফ্রয়েড।
আসলে ভেবে দেখেছি, এই হাইপারডিজিট্যাল কালচার শুধুই exclude করতে জানে। সামান্য সামান্য জিনিসের জন্যেও অ্যাপ নামাও, ওটিপি লাও, রেজিস্টার করো, ইমেল দাও, ফোন দাও, উফ্। প্রাইভেসির কথা বাদই দিন, বয়স্ক মানুষের উপর এ যে কী সীমাহীন এক অত্যাচার তার আর হিসেব নেই। দুদিন অন্তর কাগজ খোঁজো আর লাইনে দাঁড়াও। তাও শহুরে শাইনিং মানুষ ফুচকাওয়ালার কাঁচের বাক্সে কিউআর কোড দেখেই হেব্বি খুশি। "আর ক্যাশ ক্যারি করি না", ব্যাস, চারিদিকে শুধুই ওয়াও। সবই নাকি একটু গ্রোয়িং পেইন। মানিয়ে গুছিয়ে নাও। কে মানায়, আর কে আখের গোছায়? "দি ফিউচার ইজ হিয়ার, বাট ইট ইজ নট ইউনিফরমলি ডিস্ট্রিবিউটেড।" মানুষ মরছে মরুক, ব্লিংক করার আগেই সিগারেটের প্যাকেট তো দরজায় এসে দিয়ে যাচ্ছে! ব্যাস।
এদের জন্য আমার ঐ শেষ গুণটুকুই আশ্রয়। উপেক্ষা।

Comments
Post a Comment