নতুন বছরে কিচ্ছু চাওয়ার নেই। আমাদের সামনেও অন্ধকার, পিছনেও অন্ধকার, আর দুইদিকে হিংস্র উল্লাস। সেই শঙ্খ ঘোষের কবিতা মনে পড়ে, আমাদের ডান পাশে ধ্বস। আমাদের বাঁয়ে গিরিখাত। মাথায় বোমারু বিমান আর পায়ে হিমানীর বাঁধ। যদিও কবিতাটা বহুব্যবহারে জীর্ণ।
তার থেকে বন্ধু অভিষেকের মুখে শোনা মহাভারতের একটা ব্যাপক রূপক শোনাই, সম্ভবত বিদুর ও ধৃতরাষ্ট্রের কথোপকথন। প্রায় হুবহু তুলে দিলাম। আশা করছি ভুলচুক করিনি।
"গভীর জঙ্গলে, এক পথিক, মত্ত হাতির থেকে পালাতে গিয়ে এক পরিত্যক্ত পাতকুয়োর মধ্যে পড়ে যান। কুয়োর মুখে লতাপাতায় জড়িয়ে যায় তার পা দু'খানা। উল্টো ঝুলতে ঝুলতে তিনি দেখেন কুয়োর নীচে বিষধর সাপের দঙ্গল। পড়লেই সর্পাঘাত - মৃত্যু। আর এর-ই মধ্যে ছটা সাদা আর ছটা কালো ইঁদুর কুটুস কুটুস করে পায়ে জড়ানো লতা কাটছে, যেকোনো মুহূর্তে বাঁধন ছিন্ন করে পথিক পড়বেন সাপের কোটরে। অদূরে হাতির ডাক শোনা যাচ্ছে, তারাও আসছে এইদিকেই। বাগে পেলে পিষে দলে দেবে।
এদিকে, কুয়োর অনেকটা উপরে এক গাছে মৌচাক আছে, সেখান থেকে টপটপ করে মধু ঝরছে। মাঝেমধ্যে এক-এক ফোঁটা এসে পড়ছে ঝুলন্ত মানুষটার মুখে।
রূপকগুলো দেখুন। দিন আর রাত নিরন্তর আয়ুক্ষয় করছে: সাদা ইঁদুর, কালো ইঁদুর। মৃত্যুকুপে যখনতখন পড়বে মানুষ। মত্তমাতঙ্গ অস্থির চিত্তবিকারের রূপক। আর, ওইটুকু মধু চেটে পাওয়া তৃপ্তিটুকুই জীবনের রস।
প্রশ্ন হলো, এই সবের মাঝে গা এলিয়ে পড়ে ওই ক্ষণিকের মধু চাটা তৃপ্তি কি worth it? এ প্রশ্ন মহাভারতেরও। ভারতীয় দর্শনশাস্ত্রেরও।"
অতএব, এর উত্তর আমিও জানি না, আমার বন্ধুও না। তবে, আমি এইটা জানি যে আমাদের দমদম স্টেশনের সামনে মেট্রোগলিতে পাশাপাশি তিনটে ফুচকার দোকান আছে। কুড়ি টাকায় ছটা। শেষে একটু তেঁতুল জল। একটা ফাউ।
Comments
Post a Comment