"অস্তিত্ব, অতিথি তুমি।"
দুটো কবিতা পড়াই। লেখার শিরোনাম যদিও সন্দীপনীয় উপন্যাসের থেকে ঋণং কৃত্বা।
একটা কবিতা ভাস্করের, অন্যটা চার্লস বুকোওস্কির। এইদুটো কবিতা কেন জানি না, একে অপরের জুড়ি মনে হয়। "কেন জানি না" বলা ঠিক না, বলা উচিত যে কারণে এদের জুড়িদার মনে হয় সেটা হয়তো আমার কবিতা বা ইংরেজি বোঝার অসুবিধে। কে জানে, হয়তো দুটোই। আসলে তো একটি মৃত্যুর, অন্যটি বিচ্ছেদের? কিন্তু বিচ্ছেদমাত্রেই কি মৃত্যু নয়? অথবা মৃত্যুমাত্রেই বিচ্ছেদ?
আর বুকোওস্কি লিখছেন, "ইন দিস রুম, দ্য আওয়ার্স অফ লভ, স্টিল মেক শ্যাডোজ়।"
আমার পড়লেই মনে হয় আমি সেই ফাঁকা ঘরটা স্পষ্ট দেখতে পাই, হয়তো স্মৃতিতে, কিংবা কল্পনায়। "স্মৃতি হচ্ছে সাপের কামড়, যা দিন দিন বিষিয়ে ওঠে"। এও হয়তো সত্যি যে সেইরকম ফাঁকা ঘরেরা হয়তো আমাদের চারপাশে অজস্র, অগুন্তি ছোট্ট ছোট্ট ব্ল্যাকহোলের মত ওঁত পেতে রয়েছে। তাদের গন্ধ পাই, নড়াচড়া টের পাই, ছায়া সরে যায় আলমারির পিছনে সরীসৃপের মত। সাপ কিংবা শ্বাপদের যেন। কোনো একদিন হয়তো কারুর ফোন আসে, শুনি, "দ্য টাইগারস হ্যাভ ফাউণ্ড মি"। তবে, বুকোওস্কির মত ডাকাবুকো তো আর নই, যে "অ্যাণ্ড আই ডু নট কেয়ার" লিখে শেষ কথা বলে যাবো।
বরং, আজকাল মনে হয় সেইরকম একটা ফাঁকা ঘর থেকে আরেকটা ফাঁকা ঘরে একদিন অজান্তেই পৌঁছে যাবো এইটাই একমাত্র মর্টাল ভয়। "একাকী যাবো না অসময়ে।"
ভাস্করের এই যে কবিতাটি, এইটি কোনো একদিন "গোঁসাইবাগানে"র পাতায় আলোচনা করেছিলেন জয়। আমি তখন বোধহয় বোম্বে চলে গেছি, কিংবা ওয়েস্ট লাফিয়েত। একজন ফোন করে বলেছিল, তোর জন্য এই সপ্তাহের রোববারটা জমিয়ে রেখেছি, বাড়ি ফিরলেই এসে নিয়ে যাস। এখন আমার একান্ত স্বার্থপর ভয় এই যে আর কেউ হয়তো কোনো রোববার জমিয়ে রাখবে না আমার জন্য।


Comments
Post a Comment